কলকাতায় নিরাপদ খাদ্য অভ্যাস ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতা উদ্যোগে পথখাবার বিক্রেতাদের অংশগ্রহণ

 


কলকাতায় নিরাপদ খাদ্য অভ্যাস ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতা উদ্যোগে পথখাবার বিক্রেতাদের অংশগ্রহণ 

আলেফা বেগম, কলকাতা, ২২ মে, ২০২৬ : কলকাতার রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতাদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য অভ্যাস এবং জনস্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচারের জন্য আয়োজিত একটি বৃহৎ খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি উদ্যোগ, "পরিষ্কার হাত, পরিষ্কার পাত"-এর প্রথম পর্বের সফল সমাপ্তি উদযাপন করল ডক্টরস চয়েস এবং ভারত চেম্বার অফ কমার্স।


দুই মাসব্যাপী পরিচালিত এই উদ্যোগে ড্যাক্রেস লেন, টালিগঞ্জ, সাউদার্ন অ্যাভিনিউ, দেশপ্রিয় পার্ক, যাদবপুর, সন্তোষপুর, লর্ডস মোড়, পার্ক সার্কাস, বেকবাগান টপসাইড, মুকুন্দপুর, কালিকাপুর, রাজডাঙ্গা, চিৎপুর, খিদিরপুর, মোমিনপুর, চেতলা, ফুলবাগান সল্টলেক, ভিআইপি বাজার, বেলেঘাটা, কাকুড়গাছি, শ্যামবাজার, রুবি, টেরিটি বাজার, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট, লালবাজার, ডালহৌসি, বর্ধন মার্কেট এবং নিউ মার্কেট জুড়ে ১,২০০-রও বেশি রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতা উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালাগুলিতে বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কে শিক্ষিত করার উপর আলোকপাত করা হয়।



২২ মে কলকাতা প্রেসক্লাবে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী ৩০ জনেরও বেশি বিক্রেতাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি, কে.সি. দাস-এর মালিক  ধীমান দাস, বিশেষ অতিথি, নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ-এর প্রপৌত্র  শাহানশাহ মির্জা, খাদ্য ইতিহাসবিদ কমল ব্যানার্জী, ডক্টরস চয়েস-এর চিফ বিজনেস অফিসার ধিনাল ব্রহ্মভট্ট, মার্কেটিং ও স্ট্র্যাটেজি ডিরেক্টর  শিবম আগরওয়াল, ফুডপ্রেনিউর এবং আউধ ১৫৯০, চ্যাপ্টার ২ ও চৌধুরী অ্যান্ড কোং-এর প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক  শিলাদিত্য চৌধুরী এবং খাদ্য নিরাপত্তা অডিটর ও সুপারভাইজার রিমি ব্যানার্জী।

রাস্তার খাবার কলকাতার সংস্কৃতি, পরিচয় এবং জীবিকার বাস্তুতন্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। 'পরিষ্কার হাত, পরিষ্কার পাত'-এর মাধ্যমে আমরা খাদ্য স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অর্থবহ সচেতনতা তৈরি করতে এবং বিক্রেতাদের এমন ব্যবহারিক জ্ঞান দিয়ে ক্ষমতায়ন করতে চেয়েছিলাম যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের উপকারে আসে এবং একই সাথে ব্যবসার ধারাবাহিকতা ও গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রথম পর্বে বিপুল অংশগ্রহণ এবং উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া বিক্রেতাদের উন্নত স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্য সুরক্ষা পদ্ধতি গ্রহণে তাদের ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে। আমরা এই উদ্যোগটিকে আরও প্রসারিত করতে এবং শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব শুরু করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি, বলেন ডক্টরস চয়েস-এর চিফ বিজনেস অফিসার  ধিনাল ব্রহ্মভট্ট।


প্রাথমিক পর্যায়ে অর্জিত গতির ওপর ভিত্তি করে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি উদ্যোগের পরবর্তী পর্যায় চলতি বছরের জুন মাস থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ডক্টরস চয়েস কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য অভ্যাস একটি সুস্থ সমাজ গঠনে অবদান রাখে এবং 'পরিষ্কার হাত, পরিষ্কার পাত'-এর মতো উদ্যোগগুলি কোম্পানির নীতি ও আদর্শের প্রতিফলন ঘটায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কলকাতার রাস্তার খাবার বিক্রেতাদের বাস্তবসম্মত ও সহজে গ্রহণীয় সমাধান দিয়ে সহায়তা করছে। এটি শুধু একটি কর্মশালার সিরিজ নয়, বরং শহরে একটি স্বাস্থ্যকর এবং আরও দায়িত্বশীল রাস্তার খাবারের পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে একটি পদক্ষেপ। বিক্রেতাদের আন্তরিকতা ও উৎসাহের সাথে এই অভ্যাসগুলি গ্রহণ করতে দেখে আমরা গর্বিত এবং প্রথম পর্বের উৎসাহব্যঞ্জক অংশগ্রহণ আমাদের শহরের অন্যান্য অংশেও এই উদ্যোগ চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে দাবি করেন শিবম আগরওয়াল।



এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, বিক্রেতারা নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, কার্যকরভাবে হাত ধোয়ার কৌশল, স্বাস্থ্যবিধির ঘাটতি চিহ্নিতকরণ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং অধিক জনসমাগমপূর্ণ রাস্তার খাবারের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা মান মেনে চলার উপর কেন্দ্র করে আয়োজিত ব্যবহারিক কর্মশালা ও সচেতনতামূলক অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন, কলকাতার রাস্তার খাবারের পরিমণ্ডলে স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য নিরাপত্তার মান উন্নয়নে তাদের অঙ্গীকারের জন্য অংশগ্রহণকারী বিক্রেতাদের সংবর্ধনা জানানো হয়। ভারত চেম্বার অফ কমার্স শহর জুড়ে জনস্বাস্থ্যের মান উন্নয়নে ধারাবাহিক তৃণমূল স্তরের সম্পৃক্ততা এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। 

 প্রথম পর্বে, অংশগ্রহণকারী বিক্রেতারা প্রশিক্ষণ শিবিরগুলি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর শংসাপত্রের পাশাপাশি সুরক্ষামূলক দস্তানা, টুপি, অ্যাপ্রন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, তথ্যমূলক স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশিকা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম সম্বলিত হাইজিন কিট পেয়েছেন।

এই উদ্যোগটি কলকাতার ক্রমবিকাশমান রন্ধনশিল্পের পরিমণ্ডলে সামাজিক সম্পৃক্ততা, জনস্বাস্থ্য সচেতনতা এবং নিরাপদ খাদ্যচর্চার প্রসারের প্রতি ডক্টরস চয়েস-এর অঙ্গীকারকে আরও জোরদার করে চলেছে।

Comments

Popular posts from this blog

ক্যান্সার বিজয়ীদের কন্ঠে সচেতনতা ও শক্তির গল্প*

আর পি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে আইকনিকের হলে ‘রং মহোৎসব ২.০'

হাফমুন এন্টারটেইনমেন্ট"এর নতুন শিল্প সংযোজনা