মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল ব্লাডার ক্যান্সার জয়ীদের নিয়ে আয়োজন করল এক হৃদয়ছোঁয়া ‘চ্যাম্পিয়নস মিট’

 


মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল ব্লাডার ক্যান্সার জয়ীদের নিয়ে আয়োজন করল এক হৃদয়ছোঁয়া ‘চ্যাম্পিয়নস মিট’

আলেফা বেগম :: মণিপাল হাসপাতাল নেটওয়ার্কের অংশ, পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল, বৃহস্পতিবার একটি আবেগঘন ব্লাডার ক্যানসার জয়ীদের নিয়ে আয়োজন করল এক মিলনমেলা। এই বিশেষ মিলনমেলায় ক্যানসারজয়ী রোগী, তাঁদের পরিবার, চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা একত্রিত হয়ে উদযাপন করলেন সাহস, আরোগ্য এবং সচেতনতার এক অনন্য গল্প।


এই আয়োজন শুধু ক্যানসারজয়ীদের জন্য নয়, শ্রদ্ধা জানানো হল তাঁদের প্রিয়জনদেরও যারা এই লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছেন—যাতে তাঁরা অনুভব করেন, তাঁদের দুঃখ-ভাগের যাত্রায় তাঁরা একা নন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউরোলজিক্যাল ক্যানসার  - ব্লাডার ক্যানসার সম্পর্কে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যও নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের আবেগঘন মুহূর্তগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল বাস্তব জীবনের সাহস ও সহিষ্ণুতার গল্পগুলি। প্রয়াত গৌতম মুখার্জীর স্ত্রী মৈত্রেয়ী মুখার্জী ও পুত্র কৌশিক মুখার্জী তাঁদের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের যাত্রা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। প্রয়াত বিউটি দাসের কন্যা শ্রীজিতা দাসও তাঁর মায়ের সাহসিক লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করেন।


৩০ জনেরও বেশি ব্লাডার ক্যানসারজয়ী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা শোনান। তাঁদের মধ্যে একজন, কেষ্টপুরের ৪৪ বছর বয়সী গৃহবধূ ঝুনু বিশ্বাস বলেন, “ডিসেম্বর ২০২৩-এ আমার ব্লাডারে একটি টিউমার ধরা পড়ে। ডাঃ অভয়কুমার প্রথম অপারেশন করেন এবং বায়োপসিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরে আবার অপারেশন করতে হয়। আমি মুম্বই গিয়ে চিকিৎসা শুরু করলেও আত্মবিশ্বাস পাইনি। অবশেষে ডাঃ কুমারের তত্ত্বাবধানে মেডিকায় ফিরে আসি। ব্লাডার অপসারণের পরামর্শে প্রথমে দ্বিধা থাকলেও জুন ২০২৪-এ সার্জারির পরে আমি সুস্থ হয়ে উঠছি এবং প্রতিদিন আরও শক্তিশালী অনুভব করছি।”

৬০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী প্রদীপ মুখার্জী, যিনি সোদপুরের বাসিন্দা, বলেন,

“২০২২ সালে ব্লাডার ক্যান্সার ধরা পড়ার পর আমি অবিলম্বে চিকিৎসা শুরু করি। ডাঃ অভয়কুমার আমার অস্ত্রোপচার করেন এবং পুরো সময়টায় ভরসা ও সাহস জুগিয়েছেন। মেডিকার টিমের সহায়তায় আমি নতুন করে জীবন শুরু করতে পেরেছি।”


অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর (ডাঃ) সুবীর গাঙ্গুলী, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও অ্যাডভাইজার, রেডিয়েশন অনকোলজি, মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল। তিনি বলেন, “একজন ক্যান্সার রোগীর আরোগ্য শুধু চিকিৎসা নয়, বরং সার্বিক সহায়তার উপর নির্ভর করে। মেডিকায় আমরা সার্জারি, রেডিয়েশন থেরাপি, মানসিক সহায়তা এবং পুষ্টির পরামর্শ একত্রে মিলিয়ে একটি হোলিস্টিক কেয়ার মডেল গড়ে তুলেছি। কেয়ারগিভারদের মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের জন্য আমরা চালু করেছি ‘মনবীণা ক্লিনিক’, যেখানে তারা বিনামূল্যে কাউন্সেলিং ও গাইডেন্স পান।”

মেডিকার ইউরোলজি বিভাগের প্রধান ও ইউরো-অনকো ও রোবোটিক সার্জারির বিশেষজ্ঞ ডাঃ অভয়কুমার বলেন,

“ব্লাডার ক্যানসার প্রায়শই উপেক্ষিত হয়, ফলে দেরিতে রোগ ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায়। আমরা রোবোটিক প্রযুক্তিকে রোগীকেন্দ্রিক যত্নের সঙ্গে মিলিয়ে ফলাফলকে উন্নত করার দিকে জোর দিচ্ছি। ২০২৩ সালে আমরা ব্লাডার ক্যান্সার সাপোর্ট গ্রুপ চালু করেছি, যেখানে রোগীরা একে অপরকে সমর্থন করেন এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।”


সিনিয়র কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্ট, মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সোহিনী সাহা বলেন, “ক্যানসার শুধু দেহ নয়, মনকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আতঙ্ক, দুশ্চিন্তা ও মানসিক অবসাদ রোগীর চিকিৎসা জার্নির বড় অংশ। আমাদের মানসিক সহায়তা ব্যবস্থা এই যাত্রাকে সহজ করতে সহায়তা করে।”

ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান প্রীতিশা ঘোষ বলেন, “চিকিৎসার আগে, সময় ও পরে পুষ্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যালান্সড এবং পার্সোনালাইজড ডায়েট রিকভারি ও ইমিউনিটিকে প্রভাবিত করে। আমরা প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা ডায়েট প্ল্যান তৈরি করি যাতে তাঁরা সুস্থভাবে তাঁদের যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেন।”

অনুষ্ঠান শেষ হয় ক্যান্সার জয়ীদের সুরেলা পরিবেশনা। কেয়ারগিভারদের নিয়ে মুক্ত আলোচনা এবং একটি সচেতনতামূলক অঙ্গীকারের মাধ্যমে—প্রাথমিক উপসর্গ যেমন প্রস্রাবে রক্ত, ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা এবং পেলভিক অঞ্চলে ব্যথা দেখা দিলে যেন কেউ অবহেলা না করেন এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেন।

Comments

Popular posts from this blog

ক্যান্সার বিজয়ীদের কন্ঠে সচেতনতা ও শক্তির গল্প*

আর পি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে আইকনিকের হলে ‘রং মহোৎসব ২.০'

মানবতার উৎসব : কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশনের রক্তদান শিবির*