ওভেরিয়ান ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়ার

 


ওভেরিয়ান ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়ার

আলেফা বেগম, কলকাতা, ২১ মে ২০২৬: ওভেরিয়ান ক্যানসার সচেতনতা মাস উপলক্ষে এবং ক্যানসার যোদ্ধাদের অদম্য মানসিকতাকে সম্মান জানাতে এদিন মণিপাল হাসপাতাল, ঢাকুরিয়া “প্রতিটি দাগ শক্তির এক একটি গল্প বলে” শীর্ষক একটি বিশেষ ওভেরিয়ান ক্যানসার সচেতনতা সভার আয়োজন করে। এই সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওভেরিয়ান ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী, তাঁদের পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রবীণ নাগরিকরা। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ওভেরিয়ান ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে আলোচনা। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনায় অংশ নেন ডাঃ ইরিনা দে, কনসালট্যান্ট – অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি, ডাঃ পারোমিতা রায়, কনসালট্যান্ট – গাইনোকোলজিক অনকোলজিস্ট, ডাঃ তন্ময় কুমার মণ্ডল, কনসালট্যান্ট – মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট এবং ডাঃ সাগ্নিক রায়, কনসালট্যান্ট – সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট।


এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডাঃ ইরিনা দে বলেন, “ওভেরিয়ান ক্যানসারের উপসর্গ অনেক সময় খুব সাধারণ হয়, যেমন পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি, খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন বা অকারণে দুর্বল লাগা। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মহিলারা এই লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না। তাই এই সতর্কতামূলক লক্ষণগুলি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, যাতে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।”

ডাঃ তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, “কম বয়সি মহিলাদের মধ্যেও বর্তমানে ওভেরিয়ান ক্যানসারের প্রকোপ বাড়ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং পার্সোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসার উন্নতির ফলে চিকিৎসার ফলাফল অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তবে শুধুমাত্র চিকিৎসাই নয়, রোগীর মানসিক দৃঢ়তা, পরিবারের সমর্থন এবং সঠিক কাউন্সেলিংও ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

ক্যানসার যোদ্ধাদের মধ্যে ৬২ বছর বয়সি রোগী রিনা ঘোষ বলেন, “যখন জানতে পারি যে আমার স্টেজ ফোর ওভেরিয়ান ক্যানসার হয়েছে, তখন আমার পুরো জীবনটাই বদলে গিয়েছিল। ভয়, অনিশ্চয়তা এবং শারীরিক কষ্ট আমার প্রতিদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছিল। সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বড় অপারেশনের অভিজ্ঞতা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইগুলির মধ্যে একটি ছিল। তবে সাহস, আশা এবং পরিবারের ও পরিচর্যাকারীদের অবিরাম সমর্থন আমাকে ধীরে ধীরে সেই কঠিন সময় পার করতে সাহায্য করেছে। আজ আমি জীবনকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে, ভয় যতই বড় হোক না কেন, বেঁচে থাকার শক্তি এবং সুস্থ হয়ে ওঠার আশা তার থেকেও বেশি শক্তিশালী। এখন জীবনের প্রতিটি শান্ত মুহূর্ত, প্রতিটি হাসি এবং সুস্থতার প্রতিটি দিনকে আমি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উপভোগ করি।”


ডাঃ পারোমিতা রায় বলেন, “বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওভেরিয়ান ক্যানসারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই শরীরে কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে অভ্যাসে পরিণত করা। পাশাপাশি পরিবারে এই রোগ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সব বয়সের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।”

ডাঃ সাগ্নিক রায় বলেন, “বর্তমানে ওভেরিয়ান ক্যানসারের চিকিৎসা সহজলভ্য। তাই সময়মতো সঠিক পরামর্শ এবং চিকিৎসা শুরু করা গেলে বহু মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। এই ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতা সভা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং রোগ সম্পর্কে ভয় দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

Comments

Popular posts from this blog

ক্যান্সার বিজয়ীদের কন্ঠে সচেতনতা ও শক্তির গল্প*

আর পি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে আইকনিকের হলে ‘রং মহোৎসব ২.০'

মানবতার উৎসব : কালীঘাট স্পোর্টস লাভারস অ্যাসোসিয়েশনের রক্তদান শিবির*