চিকিৎসকদের অনুপ্রেরণা শক্তি ও সমাজের গণ্ডি ভাঙা নারীদের সম্মান জানাল মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস
চিকিৎসকদের অনুপ্রেরণা শক্তি ও সমাজের গণ্ডি ভাঙা নারীদের সম্মান জানাল মণিপাল হাসপাতাল ইএম বাইপাস
বকুল দাশ :: শৈশবের অসুস্থতার সময় কাঁপতে থাকা হাত শক্ত করে ধরে রাখা থেকে শুরু করে দীর্ঘ অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের পথচলায় নিরন্তর সাহস দেন যিনি, তিনি আমাদের মা। একজন মা-ই সন্তানের জীবনের প্রথম সেবাদাত্রী, প্রথম শিক্ষক এবং অনেক সময় প্রথম অনুপ্রেরণা। একজন চিকিৎসক রোগীকে সুস্থ করে তোলা, ওষুধ লিখে দেওয়া বা অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচার করার শিক্ষা পাওয়ার বহু আগেই, তাঁর মা নিঃশব্দে গড়ে তোলেন সহমর্মিতা, ধৈর্য, মানসিক দৃঢ়তা এবং অন্যের জন্য নিঃস্বার্থভাবে যত্ন নেওয়ার মূল্যবোধ। এই অমূল্য সম্পর্ককে উদযাপন করতে এবং সন্তানদের লালনপালনের পাশাপাশি সমাজের বাঁধাধরা নিয়ম ভেঙে এগিয়ে চলা নারীদের সম্মান জানাতে মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস আয়োজন করেছিল বিশেষ মাতৃদিবস উদযাপন। “প্রতিটি চিকিৎসকের জীবনের প্রথম নিরাময়দাত্রী মায়েদের সম্মান”। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথি, প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃত গবেষক ড. নন্দিনী ভৌমিক। পাশাপাশি ছিলেন খ্যাতনামা প্রতিমাশিল্পী চায়না পাল, বাসচালক প্রতিমা পোদ্দার এবং পিঙ্ক ক্যাব চালক মানসী মৃধা — যাঁরা সমাজের প্রচলিত পেশার গণ্ডি ভেঙে নিজেরা নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন, পাশাপাশি আদর্শ মায়ের ভূমিকা পালন করে সকলকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
এই আবেগঘন অনুষ্ঠানে মণিপাল হাসপাতাল, ইএম বাইপাস -এর ডাঃ পূজা আগরওয়াল – কনসালট্যান্ট, সার্জিক্যাল অনকোলজি (ব্রেস্ট ক্যানসার সার্জারি), ; ডাঃ শাশ্বতী সেনগুপ্ত দত্ত – সিনিয়র কনসালট্যান্ট – ইএনটি, ডাঃ নীলাদ্রি কোনার – কনসালট্যান্ট, ইন্টারনাল মেডিসিন, ডাঃ সৌপ্তিক গঙ্গোপাধ্যায় – কনসালট্যান্ট, অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি, এবং ডাঃ সায়ন দাস – সিনিয়র কনসালট্যান্ট, রেডিয়েশন অনকোলজি, তাঁদের মায়েদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রোগীদের হাত দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। তাঁদের সন্তানদের মানবিক ও সহমর্মী চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার পিছনে থাকা নীরব ত্যাগ, অনুপ্রেরণা এবং অবিচল সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে চিকিৎসকরাও তাঁদের জীবনের নানা স্মৃতি ভাগ করে নেন, যেখানে উঠে আসে কীভাবে তাঁদের মায়েরা কঠোর পড়াশোনার দিনগুলোতে পাশে থেকেছেন এবং জীবনে সহানুভূতি, নিয়মানুবর্তিতা, সাহস ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। এই অনুষ্ঠান সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য, যাঁরা প্রতিনিয়ত পরিবার ও সমাজে শক্তি, ভালোবাসা, যত্ন ও এগিয়ে চলার প্রেরণা জোগান।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলতে গিয়ে ড. নন্দিনী ভৌমিক বলেন, “একজন মায়ের ভালোবাসা মানুষের জীবনে সবচেয়ে নির্মল এবং নিঃস্বার্থ অনুভূতিগুলোর মধ্যে অন্যতম। শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে মায়েরা আমাদের রক্ষাকবচ, শিক্ষক, মানসিক ভরসা এবং সবচেয়ে বড় সমর্থন হয়ে থাকেন। পরিবারের কল্যাণের জন্য তাঁরা অনেক সময় নিজেদের স্বপ্ন এবং স্বাচ্ছন্দ্যও ত্যাগ করেন। মাতৃত্বের সবচেয়ে অসাধারণ দিক হলো সেই নীরব দৃঢ়তা, যার মাধ্যমে মায়েরা প্রতিটি পরিস্থিতিতে সন্তানদের পথ দেখান, আগলে রাখেন এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। আজ চিকিৎসকদের তাঁদের মায়েদের সম্মান জানাতে দেখে ভীষণ আবেগপ্রবণ ও অনুপ্রাণিত হয়েছি, কারণ প্রতিটি সফল মানুষের পিছনে এমন একজন নারী থাকেন, যাঁর শক্তি, ধৈর্য ও ত্যাগ অনেক সময় অদৃশ্য থেকে যায়, অথচ যার মূল্য অপরিসীম। এই ধরনের অনুষ্ঠান আমাদের জীবনের সেই নারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার সুযোগ করে দেয়, যাঁরা নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও যত্ন দিয়ে আমাদের জীবন গড়ে তোলেন।”
এই হৃদয়স্পর্শী উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতাল আবারও স্বাস্থ্যপরিষেবার মানবিক দিকটিকে সামনে নিয়ে এসেছে। চিকিৎসকদের জীবনের পিছনে থাকা মায়েদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে হাসপাতালটি সহমর্মিতা, কৃতজ্ঞতা এবং সমাজের সঙ্গে আন্তরিক সংযোগ গড়ে তোলার প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে আরও একবার তুলে ধরেছে।



Comments