মণিপাল হসপিটালস সল্টলেক ক্লাস্টারের ‘ডাইজেস্টিভ ওয়েলনেস রিডিফাইন্ড’ সেশন : প্রকাশিত হলো সমন্বিত গ্রন্থ

 


মণিপাল হসপিটালস সল্টলেক ক্লাস্টারের ‘ডাইজেস্টিভ ওয়েলনেস রিডিফাইন্ড’ সেশন : প্রকাশিত হলো সমন্বিত গ্রন্থ

আলেফা বেগম :: ২৪ মার্চ মণিপাল হসপিটালস সল্টলেক ক্লাস্টার এদিন সল্টলেকের ব্রডওয়ে ইউনিটে “ডাইজেস্টিভ ওয়েলনেস রিডিফাইন্ড” শীর্ষক একটি তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় সেশনের আয়োজন করলো। এই উপলক্ষে পাচনতন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে একটি সমন্বিত গ্রন্থও প্রকাশ করা হয়, যা মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে ও সল্টলেকের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগ।



এই গ্রন্থটি পাচনতন্ত্র সংক্রান্ত ক্রমবর্ধমান সমস্যাগুলির উপর একটি ব্যবহারিক ও বিস্তৃত নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, প্রতিরোধমূলক উপায়, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং জীবনযাত্রা-ভিত্তিক সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপের বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এই সেশনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞদের একটি দল, যার মধ্যে ছিলেন ডাঃ সুজিত চৌধুরী (হেড, মেডিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডাঃ সুদীপ্ত ঘোষ (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডাঃ সুজয় মৈত্র (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডাঃ দেবকুমার রায় (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডাঃ সঞ্জয় মণ্ডল (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডাঃ অরিজিৎ সিংহ মহাপাত্র (কনসালট্যান্ট – সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডাঃ কিংশুক ধর (সিনিয়র কনসালট্যান্ট – মেডিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি), ডাঃ কুশান সেনগুপ্ত (কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি) এবং ডাঃ অভিষেক ব্যানার্জি (কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি)।


বিশেষজ্ঞরা জানান, আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে পাচনতন্ত্রের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং প্রসেসড খাবারের ব্যবহার - এসবই এর প্রধান কারণ। অ্যাসিডিটি, ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (IBS), ফ্যাটি লিভার, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সংক্রমণ এবং কোলোরেক্টাল সমস্যার মতো রোগ ক্রমেই বাড়ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই দেরিতে ধরা পড়ে।

সেশনে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এবং আধুনিক মিনিমালি ইনভেসিভ ও জটিল গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জারির অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে পাচনতন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখার বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ পান।

এই প্রসঙ্গে ডাঃ সুজিত চৌধুরী বলেন, “বর্তমান জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সচেতনতার অভাবে পাচনতন্ত্রের রোগ দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় প্রতি ৫ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন কোনো না কোনো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া, শহুরে জনসংখ্যার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। অনেকেই অ্যাসিডিটি, ফাঁপা ভাব বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনের মতো প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করেন, যা কখনও গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। ‘ডাইজেস্টিভ ওয়েলনেস রিডিফাইন্ড’ উদ্যোগ এবং এই বইয়ের মাধ্যমে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসা-সংক্রান্ত জ্ঞান সহজভাবে পৌঁছে দিতে চাই, যাতে তারা প্রতিরোধ ও উন্নত চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।”

এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আরও জোরদার করেছে, যাতে উন্নত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি চিকিৎসার জন্য রোগীদের রাজ্যের বাইরে যেতে না হয়।

“ডাইজেস্টিভ ওয়েলনেস রিডিফাইন্ড” গ্রন্থের সফল প্রকাশ এবং এই ধরনের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা সহজলভ্য করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Comments

Popular posts from this blog

ক্যান্সার বিজয়ীদের কন্ঠে সচেতনতা ও শক্তির গল্প*

আর পি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে আইকনিকের হলে ‘রং মহোৎসব ২.০'

মণিপাল হাসপাতাল বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি ও অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তদের সঙ্গে নিয়ে ফার্স্ট এইড ও সিপিআর সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী