শান্তিই সমৃদ্ধির পথ, যুদ্ধ অবসানে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক ডাঃ কে. এ. পলের

 


শান্তিই সমৃদ্ধির পথ, যুদ্ধ অবসানে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক ডাঃ কে. এ. পলের

বকুল দাশ :: আন্তর্জাতিক শান্তিপ্রিয় লিডার ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক সংঘাত প্রতিরোধে সম্মিলিত রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও নাগরিক সমর্থনের আহ্বান জানালেন।

কলকাতায় ২ মার্চ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ধর্মপ্রচারক গ্লোবাল পিস ইনিশিয়েটিভ-এর প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ কে. এ. পল কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে চলমান বৈশ্বিক সংঘাত বন্ধে বিশ্বব্যাপী ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কোনভাবে শান্তি সম্ভব নয়।


ডাঃ পল দাবি করেন, ১৯৮১ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জানুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাসে আইনপ্রণেতাদের সামনে বক্তব্য রেখে তিনি বিশ্বব্যাপী সংঘাত অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।


তিনি আরও বলেন, ভারত বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। ২২ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশ্বশান্তি সমাবেশের কথাও তিনি তুলে ধরেন, যেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা সংলাপ ও সম্প্রীতির পক্ষে মত দেন। তাঁর মতে, শান্তি উদ্যোগকে রাজনৈতিক বিভাজন ও মতাদর্শগত পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে।


ডাঃ পল বলেন, “যেখানে শান্তি আছে, সেখানে সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন আছে।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও স্থিতিশীল পরিবেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। সরকার, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই টেকসই সমাধান সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

ডাঃ পল পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ আকারে একটি শান্তি সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে গ্লোবাল পিস ইনিশিয়েটিভে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং স্পষ্ট করেন যে এই আন্দোলন অর্থের চেয়ে অংশগ্রহণ ও সংহতির গুরুত্ব দেয়।

তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শান্তি ও উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

চলতি আন্তর্জাতিক সংঘাত প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ পল মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং গণতন্ত্র, আলোচনা ও মানবিক সম্পৃক্ততাকে সংঘাত সমাধানের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বিশ্বনেতা ও নাগরিকদের শান্তির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

Comments

Popular posts from this blog

ক্যান্সার বিজয়ীদের কন্ঠে সচেতনতা ও শক্তির গল্প*

আর পি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে আইকনিকের হলে ‘রং মহোৎসব ২.০'

মণিপাল হাসপাতাল বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি ও অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তদের সঙ্গে নিয়ে ফার্স্ট এইড ও সিপিআর সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী