মণিপাল হসপিটালস কলকাতায় চালু করল অত্যাধুনিক ‘মণিপাল অ্যাম্বুলেন্স রেসপন্স সার্ভিস’

 


মণিপাল হসপিটালস কলকাতায় চালু করল অত্যাধুনিক ‘মণিপাল অ্যাম্বুলেন্স রেসপন্স সার্ভিস’


 বকুল দাশ :: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর মণিপাল হসপিটালস আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা শহরে চালু করল মণিপাল অ্যাম্বুলেন্স রেসপন্স সার্ভিস (MARS) – যা পূর্বাঞ্চলের জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসাবে মণিপাল হসপিটালস ১৭টি অত্যাধুনিক মণিপাল অ্যাম্বুলেন্সের একটি শক্তিশালী বহর উদ্বোধন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৫টি অ্যাডভান্সড কার্ডিয়াক লাইফ সাপোর্ট (ACLS) ইউনিট এবং ১২টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট (BLS) ইউনিট। পাশাপাশি, সেই সাথে থাকছে ২০টি কলকাতা অ্যাক্সিডেন্ট রেসপন্স অ্যান্ড মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (KARMA) অ্যাম্বুলেন্স, যা কলকাতা পুলিশ ও মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের বিশেষায়িত জরুরি সহায়তা ও গোল্ডেন-আওয়ার ইন্টারভেনশন প্রদান করে।



মণিপাল হসপিটালস বর্তমানে তাদের নেটওয়ার্ক জুড়ে ১০০-রও বেশি MARS অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা করছে, যা প্রতিদিন ৫০০-রও বেশি জরুরি কলের সাড়া দিচ্ছে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা ও বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের একাধিক শীর্ষকর্তা। শ্রীমুকেশ, পুলিশ কমিশনার, বিধাননগর কমিশনারেট; রূপেশ কুমার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), কলকাতা পুলিশ; ইয়েলওয়াড শ্রীকান্ত জগন্নাথ রাও, ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক), কলকাতা পুলিশ; ও নির্মা নর্বু ভুটিয়া, ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক), বিধাননগর সিটি পুলিশ।


মণিপাল হসপিটালস-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মেবেল ভাসনাইক, চেয়ারপার্সন ও প্রধান, ইমার্জেন্সি মেডিসিন, মণিপাল হসপিটালস বেঙ্গালুরু এবং ২০১৪ সাল থেকে MARS উদ্যোগের মূল সহযোগী; মধুর গোপাল, ভাইস প্রেসিডেন্ট – মার্কেটিং, মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড, ডাঃ ইন্দ্রনীল দাস, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও প্রধান – অ্যাক্সিডেন্ট ও ইমার্জেন্সি কেয়ার, মণিপাল হসপিটাল EM বাইপাস; ড. কিশেন গোয়েল, কনসালট্যান্ট ও প্রধান – ইমার্জেন্সি, মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে; ডাঃ সুজয় দাশ ঠাকুর, কনসালট্যান্ট ও ইন-চার্জ – ইমার্জেন্সি মেডিসিন, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর; এবং ডাঃ অয়নাভ দেবগুপ্ত, রিজিওনাল CEO, মণিপাল হসপিটালস ইস্ট।


MARS হল মণিপালের ফ্ল্যাগশিপ প্রিহসপিটাল ইমার্জেন্সি কেয়ার প্রোগ্রাম, যা আঘাতের পর প্রথম ‘স্বর্ণালী ঘণ্টা’-তেই পূর্ণাঙ্গ প্রিহসপিটাল ইন্টারভেনশন নিশ্চিত করে। দেশজুড়ে মণিপাল হসপিটালস-এর অ্যাম্বুলেন্স বহর একাধিক আধুনিক লাইফ-সেভিং সরঞ্জামে সজ্জিত—যার মধ্যে রয়েছে ECG মেশিন, ভেন্টিলেটর, ডিফিব্রিলেটর, মাল্টি-প্যারামিটার মনিটরিং সিস্টেম, সিরিঞ্জ পাম্প এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রিটিক্যাল কেয়ার যন্ত্রপাতি, যা রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাথমিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।


ডাঃ ইন্দ্রনীল দাস বলেন, “ভারতে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার ফলে বহু রোগীর অবনতি দেখা যায়—বিশেষ করে হৃদ্‌রোগ সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে। কলকাতায় হার্ট অ্যাটাক এবং নিউরোলজিকাল ইমার্জেন্সি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে MARS-এর সূচনা অত্যন্ত সময়োপযোগী।"


ডাঃ কিশেন গোয়েল বলেন, “ইমার্জেন্সি চিকিৎসায় প্রতি মিনিট সাশ্রয় করা মানে রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা ১০% পর্যন্ত বাড়ানো। কলকাতার বড় চ্যালেঞ্জ ছিল হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই চিকিৎসা শুরু করা না হওয়া। MARS এই ফাঁক পূরণ করছে। এটি শহরের ইমার্জেন্সি রেসপন্স ব্যবস্থার জন্য এক বড় পরিবর্তন।”


ডাঃ সুজয় দাশ ঠাকুর বলেন, “শহরে ট্রমা ও সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সময়মতো প্রিহসপিটাল কেয়ার প্রায় ২৫–৩০% মৃত্যুহার কমাতে পারে। ১৭টি মণিপাল অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ৪০টি KARMA অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত হওয়ায় পূর্ব ভারতে এটি এখন সবচেয়ে শক্তিশালী ইমার্জেন্সি রেসপন্স নেটওয়ার্কগুলির একটি।”


উদ্বোধন সম্পর্কে ডাঃ অয়নাভ দেবগুপ্ত বলেন, “আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে দ্রুত প্রিহসপিটাল ইন্টারভেনশন মৃত্যুহার ৪০% পর্যন্ত কমাতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিট দেরি হলে বাঁচার সম্ভাবনা ৭–১০% কমে যায়। তাই জরুরি রেসপন্সের গতি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। MARS-এর সূচনা আমাদের জরুরি পরিষেবাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এবং আরও বেশি প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করবে।”

Comments

Popular posts from this blog

*বাসন্তীতে শেষ হলো ৮ দলীয় নক আউট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট*

ক্যান্সার বিজয়ীদের কন্ঠে সচেতনতা ও শক্তির গল্প*

মণিপাল হাসপাতাল বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি ও অ্যাসিড হামলায় আক্রান্তদের সঙ্গে নিয়ে ফার্স্ট এইড ও সিপিআর সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী