দুই নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন
দুই নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন
সাজাহান সিরাজ : এক অন্য গল্প।দুই নারীর গল্প। বলা ভালো, এ এক আজব কাহিনী। অভাবের সংসার। দারিদ্র্যের মধ্যে তাদের বেড়ে ওঠা। বয়স হলেও সৎ সচ্ছল পাত্র জোগাড় করতে ব্যর্থ তাদের পরিবার। বিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য হচ্ছিল না দুই পরিবারের। কিন্তু ভালোবাসা তো থেমে থাকে না । প্রেম বড় বিচিত্র। টেলিফোনে আলাপ। সেই থেকে প্রেম ভালবাসা। একসঙ্গে কাজের সুবাদে সে প্রেম আরো গাড়ো হয়। নিজেদের মধ্যে নির্ভরতা বাড়ে। নাইবা জুটলো পুরুষ বর। পরিবারের উপর নির্ভর না করে নিজেরাই, দুই নারী সামাজিক বিয়ের স্বপ্ন ভুলে অসম বিয়েতে সম্মত হন। দীর্ঘ সময় পর দুই নারী নিজেদের মধ্যে সংসার পাতার স্বপ্ন দেখেন। যেমন ভাবা তেমনি কাজ।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুন্দরবন লাগোয়া কুলতলী ব্লকের জালাবেড়িয়া ১ নম্বর অঞ্চলের পালের চক মন্দির প্রাঙ্গণে হাজার হাজার গ্রামবাসীকে সাক্ষী রেখে মন্দিরে দুই নারী বিয়ের পোশাকে এক মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে মন্ত্র উচ্চারণ, মালা বদল, সাত পাক ঘুরে সাত জন্মের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। দুই নারী একে অন্যকে বিয়ে করলেন। বর মন্দিরবাজারের রামেশ্বরপুরের বাসিন্দা
রিয়া সরদার। পেশায় একজন নৃত্যশিল্পী। গদা মথুরা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তার জন্মের পরে বাবা-মা মারা যান। মাসি ও মেসোর কাছে মানুষ। মাসি কবিতা কয়াল মেসো দিপু কয়াল।
কনে রাখি নস্কর। বকুলতলা থানার বাসিন্দা। জামতলা ভগবানচন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে থেকে তিনিও নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বাড়িতে তার মা বাবা দাদা বৌদি। চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা। রাখিও একজন নৃত্যশিল্পী। মঙ্গলবার রাতে মন্দিরে হাজার হাজার গ্রামবাসীর সামনে তারা সাতপাকে বাঁধা পড়লেন।



Comments