দীপঙ্কর ভট্টাচার্য্য এর নতুন ছবি প্রতীক্ষা মুক্তি পাচ্ছে নতুন বছরে
দীপঙ্কর ভট্টাচার্য্য এর নতুন ছবি প্রতীক্ষা মুক্তি পাচ্ছে নতুন বছরে
সাজাহান সিরাজ :: ভালোবাসা, প্রেম, জন্ম- জন্মান্তর কি বয়ে চলে মরণের ঊর্ধ্বে ? হয় তো তাই। তাইতো, অসুস্থ মনীষার স্মৃতিতে ভেসে আসে পূর্বজন্মের কাঙ্ক্ষিত প্রেমের কিছু কিছু মুহূর্ত, যার পরিণতি লাভ সম্ভব হয়েছিল পাহাড়ে উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করতে আসা সন্দীপকে দেখে ! পূর্ব জীবনের 'মমতা ভিলা'য় দিনের পর দিন ঘটে যাওয়া স্মৃতি রোমন্থন মনীষাকে উদ্বেল করে তোলে। মনীষার বাবা বিশ্বজিৎবাবু বুঝতে পেরেছিলেন মেয়ের কোন অসুখ নেই। সে নিতান্তই একজন জাতিরশ্বর। যার পূর্বজন্মে একজন দাদা ছিল। তিন তিনজন মাতৃহারা ভাইপো ভাইঝি ছিল, যাদেরকে মানুষ করতে জীবনের সব সখ-আহ্লাদ জলাঞ্জলি দিতে হয়েছিল পূর্বজন্মের পায়েলকে, যে এই জন্মের মনীষা। আর ছিল তার ভালোবাসা সৌম্যর সঙ্গের টুকরো টুকরো স্মৃতি। মনীষার সব মনে পড়ে গেল গবেষক সন্দীপকে দেখে। পূর্বজন্মের সৌম্যর কথা, নিতাইদা, পুঁতির কথা, কিছু না জেনে পায়েলকে মন দিয়ে ফেলেছিল অর্ঘ্য। তার কথা, তার দাদা-বৌদির কথা। পায়েল জেনেছিল বিপুল ঐশ্বর্যে মানুষ হয়েও ভালোবাসাটা ভালোবাসাই। সেখানে অর্থ, যশ, সামাজিক প্রতিষ্ঠা কোন কিছুই প্রভাবিত করতে পারেনা। তাই তো সে নিজেকে চরম ভাবে সমর্পণ করতে চেয়েছিল সৌম্যর কাছে। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে সে সম্পর্ক টেকেনি। এক গাড়ি দুর্ঘটনায় চলে যেতে হয়েছিল পায়েলকে। আর সৌম্য দেখিয়েছিল এই পরিবারের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা। তাই তো সে তার জীবন দিয়ে পায়েলের দাদাকে বাঁচিয়ে ছিল। সেদিনের সৌম্য আজকের সন্দীপ হয়ে এসেছে কিনা তা মনীষার জানা নেই কিন্তু কালকের পায়েল যে আজকের মনীষা এ কথাটা ধ্রুব সত্য। তাই তো সন্দীপকে দেখে মনীষার সব পূর্ব স্মৃতি মনে পড়ে যায়। আবার সে ফিরে পেয়েছে তার সেই হারিয়ে যাওয়া দাদা, তোজো, বাবাই, মোমো, নিতাইদা সবাইকে। কিন্তু কালের অন্তরালে তাদের বয়স বেড়েছে। অন্যদিকে 'মমতা ভিলা'র আমূল পরিবর্তন হয়েছে। পায়েলের দাদার কাছে এটা অবিশ্বাস্য। এটা কি সম্ভব ? এক্ষেত্রে সন্দীপের ভূমিকাও কম না। সেই তো মনীষার সাথে বন্ধুর মতো মিশে তাকে আশ্বাস দিয়েছিল তার পূর্বজন্মের হারিয়ে যাওয়া 'মমতা ভিলা' ও তার পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়ার।
এ প্রতীক্ষা একটা জীবনের প্রতীক্ষা নয় এ প্রতিজ্ঞা অন্তহীন ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে থাকবে দুই প্রজন্মের অভিজ্ঞতায়। যেখানে একাকার হয়ে থাকবে মনীষা- পায়েল, সন্দীপ-সৌম্য।
বুধবার, কলকাতা প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলা ছবি প্রতীক্ষার পরিচালক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য জানান, 'ইদানীংকালে পূণর্জন্ম নিয়ে তেমন কোন ভালো কাজ বাঙলা সিনেমায় হয়নি। সেই উদ্যোগ নিয়েছি আমারা।' তিনি বলেন, 'আমরা এক সাথেই কাজ করতে পেরেছি, মনে হয়েছে যেন একই পরিবার।' তিনি আরও জানান, 'ছবিটি বড় পর্দায় দেখলে মন ভরে যাবে। আগামী নতুন বছরে ছবিটি মুক্তি পাবে।' পরিচালক জানান, 'এই ছবিতে সবাই ভালো কাজ করেছেন।'
এই ছবিতে অভিনয় করেছেন, রাজা চ্যাটার্জী, শতাব্দী ভট্টাচার্য, অস্মিতা মুখার্জী, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, দেবাশীষ গাঙ্গুলী, অর্ণব ব্যানার্জি, তনিমা দাস সরকার, দীপান্বিতা বিশ্বাস, তমসা, শীর্ষা রক্ষিত, রিনা মিত্র, আরফিন রানা, প্রশান্ত বিশ্বাস প্রমুখ। দর্শকদের কাছে এই ছবিতে বড় পাওনা, সদ্য প্রয়াত বিশিষ্ট অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে।
এই ছবির প্রযোজক সন্দীপ ভূঁইয়া, সংগীত পরিচালক সন্দীপ সিংহ। ছবিতে একটি রবীন্দ্র সংগীত সহ তিনটি গান ব্যবহার করা হয়েছে।
Comments